শিশুদের অধিকার রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রসারে অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন সাতক্ষীরার দুই কৃতি তরুণ সমাজকর্মী সুদীপ্ত দেবনাথ (১৭) ও মুশফিক উর রহমান (১৭)। বিশ্বব্যাপী ‘শিশুদের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসামান্য প্রতিভাবান শিশু ও তরুণদের মধ্য থেকে তাদের এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত আন্তর্জাতিক শিশু সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন’ প্রতিবছর শিশুদের অধিকার রক্ষায় আপসহীন ও সাহসী ভূমিকা পালনকারী তরুণদের এই সম্মানজনক স্বীকৃতি প্রদান করে থাকে।
মনোনীত হওয়া সুদীপ্ত দেবনাথ ও মুশফিক উর রহমান দুজনই সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে তারা বর্তমানে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়ন করছেন। সুদীপ্ত দেবনাথ সাতক্ষীরা শহরের মাস্টারপাড়ার যামিনী কুমার দেবনাথ ও সেজুতি দেবনাথ দম্পতির সন্তান। অন্যদিকে, মুশফিক উর রহমান শহরের মুনজিতপুর এলাকার বিশিষ্ট সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল ও বারছাতুন নেছা দম্পতির সন্তান। তাদের এই আন্তর্জাতিক অর্জন কেবল সাতক্ষীরা জেলা নয়, পুরো দেশের জন্যই এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত চার বছর ধরে এই দুই তরুণ উপকূলীয় অঞ্চলে শিশু অধিকার সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সমাজে জেঁক বসে থাকা বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও শিক্ষা থেকে শিশুদের বঞ্চিত করার মতো গুরুতর সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করার পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও শিশু অধিকার নিয়ে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে এরই মধ্যে একাধিক বাল্যবিয়ে সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, অবহেলিত শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন।
শিশু অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে এই দুই তরুণ বিভিন্ন ওয়েবিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং আকর্ষণীয় ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে মূলত শিশু সুরক্ষা, ইন্টারনেট দুনিয়ায় অনলাইন নিরাপত্তা এবং মানসম্মত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কেবল ভার্চুয়াল মাধ্যমেই নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মশালা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা স্থানীয় লোকজনকে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মতো এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। শৈশব থেকেই শিশুদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। এই মনোনয়ন কাজের পরিধি ও দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে চাই।
একই অনুভূতি প্রকাশ করে মুশফিক উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। এই স্বীকৃতি আমাদের কাজের স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের কল্যাণে আরও বেশি উদ্যমে ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।