সাজেকে গোলাগুলিতে ৯ বছরের শিশু গুলিবিদ্ধ

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কস্মিতা ত্রিপুরা (৯) নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সাজেকের মন্দিরাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির সময় শিশুটির বাম হাতে গুলি লাগে বলে জানা গেছে।

গুলিবিদ্ধ কস্মিতা ত্রিপুরা সাজেক থানার মন্দিরাছড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা ওলেন্দ্র ত্রিপুরা এবং মা মনিকা ত্রিপুরা। সে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকালে ওই এলাকায় দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। গোলাগুলির একপর্যায়ে শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়। তবে ঘটনার সময় শিশুটি ঠিক কোথায় অবস্থান করছিল—এ বিষয়ে প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও তাকে বাড়ির ভেতরে থাকার কথা বলা হয়েছে, আবার কোথাও বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে গোলাগুলিতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কর্মীদের জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে ইউপিডিএফের মুখপাত্র ঘটনার বিষয়ে তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন এবং জেএসএসের এক নেতাও সংগঠনটির সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। ফলে গোলাগুলির সুনির্দিষ্ট পক্ষ ও কারণ নিয়ে এখনো ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা কস্মিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাচালং এলাকায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে শিশুটির হাত থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে।

সাজেক থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। একই ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পাহাড়ে সশস্ত্র সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদ।

এদিকে, রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর বকিব পিপিএম জানিয়েছেন, সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং সে সময় বাড়ি ফেরার পথে শিশুটির শরীরে একটি গুলি লাগে। তবে কারা গোলাগুলি বা গুলি বিনিময় করছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি বলে তিনি জানান।

ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বয়স, স্থান ও শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তাই এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে।

০%
০%
০%
০%