চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে তিন রোগী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডের সার্জারি বিভাগে হঠাৎ ছাদের বড় একটি অংশ ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের আর্তনাদে মুহূর্তেই পুরো ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৭০), আকতার হোসেন (৮০) এবং আবুল খায়ের (৪৫) রয়েছেন। এদের মধ্যে আবুল খায়েরের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আহতদের সরিয়ে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরাজীর্ণ ও পুরোনো ভবন হওয়ায় এর আগেও শিশু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বারবার এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় রোগীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা এখন হাসপাতালের ভেতরে থাকতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেকেই দ্রুত ছাড়পত্র নিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান জানান, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে পুরো অবকাঠামোর ওপর বাড়তি ভার পড়ছে, যা ভবনটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে বারবার এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের কাছে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও জীবন রক্ষাকারী এই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।