চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসতবাড়ির মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১০-১৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নরসিয়া গ্রামে একটি বসতবাড়িতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অন্তত ১০ থেকে ১৫টি ককটেলের ভয়াবহ বিস্ফোরণে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে। সোমবার রাত আটটার দিকে স্থানীয় মো. ইয়াহিয়ার বাড়িতে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে ঘরটির একটি দেয়াল ধসে পড়ার পাশাপাশি টিনের চাল উড়ে গেছে। ঘটনার পর থেকেই বাড়ির মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে ঘরটির একাংশ মাটির সঙ্গে মিশে যায়। বিকট শব্দে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনশূন্য অবস্থায় বাড়িটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে প্রতিবেশীরা খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জহুরপুরটেক বিওপির বিজিবি সদস্যরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৌঁছানোর আগেই বাড়ির লোকজন সপরিবারে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ কিংবা বিস্ফোরক মজুদের নেপথ্যের রহস্য এখনো অধরা। ঘটনাস্থল থেকে কোনো আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বাড়িতে আগে থেকেই বিপুল পরিমাণ ককটেল মজুদ করা ছিল। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে অপরাধীরা পালিয়ে গেলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে ও ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে আইনি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই বিজিবির একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে দেয়াল ও চালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে ভাগ্যক্রমে ওই সময় বাড়ির ভেতরে কেউ না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে বিস্ফোরক মজুদ রাখা স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। এ ধরনের অশুভ তৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিস্ফোরক মজুদের নেপথ্যে থাকা চক্রটিকে খুঁজে বের করতে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

০%
০%
০%
০%