কোনো ধরনের বহিরাগত চাপের মুখে নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক স্বার্থ ও কৌশলগত সুসম্পর্ক বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমান কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে সফল অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন এ কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোয়িং চুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া নয়। দীর্ঘ আলোচনা ও দুই দেশের প্রতিনিধিদলের যৌথ পর্যালোচনার মাধ্যমেই এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই চুক্তি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক সিভিল নিউক্লিয়ার কোঅপারেশন’ সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বহুমুখী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কার্যক্রমের বাইরেও প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে অনন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। এই সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের অন্তত ১১ জন শীর্ষ নেতার সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর দেশের জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকারপ্রধানের বিশ্বমঞ্চে এই প্রতিনিধিত্বের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মাহাদী আমিন বলেন, জাতিসংঘে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো অত্যন্ত জোরালোভাবে স্থান পেয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউটের ঘটনাটি বিশ্বমঞ্চে দেশের আপসহীন নৈতিক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তা এবং তাদের নিজ ভূখণ্ডে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও প্রভাবশালী দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সংকট সমাধানে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।
এ সময় সাম্প্রতিক সময়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকারের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালালে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানে থেকে কাজ করছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিমানবন্দরে আয়োজিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।