সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের বিধান যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, যার পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত বিষয়গুলোও সংবিধান সংশোধনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮-এ এই বিধান যুক্ত করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি।
সংবিধান সংশোধনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা তুলে ধরে কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চলছে। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিল প্রস্তুত করা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদের বছরের প্রথম অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরপর সংসদীয় আলোচনা ও সংশোধনী শেষে বিলটি পাস হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা গণভোটে অবতীর্ণ হবে।
গণভোটের আইনি প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদটি পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছে। প্রস্তাবনা এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২-এর মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পূর্বেই তা গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য সংগ্রাম করা হয়েছে, তা যেন ভবিষ্যতে কোনো সংসদ চাইলেই সহজে বাতিল করতে না পারে—সে বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত সাংবিধানিক অনুচ্ছেদগুলোতে সংশোধনী আনার ক্ষেত্রেও যেন বাধ্যতামূলকভাবে গণভোটের বিধান রাখা হয়, সেই প্রস্তাবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।