জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ দিনের ফলপ্রসূ কূটনৈতিক মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার সকাল ৮টা ২১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চার দিনের অত্যন্ত ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি সরকারি ও উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে বিশ্বমঞ্চে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তিনি প্রথমবারের মতো একটি যুগান্তকারী ভাষণ প্রদান করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে জোরালোভাবে তুলে ধরে। সফরকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বিভিন্ন ফোরামে তাঁর উপস্থিতি এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান যে, নিউইয়র্কের ব্যস্ততম সময়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এসব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন জনশক্তি বাজার সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মতো সমসাময়িক ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়।
সফরের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আটটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে আয়োজিত চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই যুক্তরাষ্ট্র সফরে তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানও অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র অবস্থানকালে মোট আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং এর মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য তথা মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য খাত এবং সামাজিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রার চিত্র এসব ফোরামে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।