পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা চা দোকানদারের দোকান ও বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন ও ভাঙচুর

তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পাবনা সদর উপজেলায় একাদশ বর্ষীয় আরও এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের একটি চায়ের দোকানে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চা দোকানি সাইফুল ইসলামকে (৫০) গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ওই শিশুটিকে বিদ্যালয়ের সামনের চায়ের দোকানে একা পেয়ে জোরপূর্বক ভেতরে নিয়ে যান স্থানীয় কারিগরপাড়ার মৃত আলমের ছেলে ও অভিযুক্ত চা দোকানি সাইফুল ইসলাম। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টার সময় স্থানীয় লোকজনের নজরে বিষয়টি আসে। জনরোষ ও লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দোকান থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত সাইফুল।

এই জঘন্য ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা অবিলম্বে অভিযুক্তের বিচার দাবি করে তার চায়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি তার বাড়িঘরেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আটাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে একাদশ বর্ষীয় ওই শিশুকে চায়ের দোকানের ভেতরে ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে মোস্তফা নামের এক মুদি দোকানি ধর্ষণের পর হত্যা করে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়সিনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই পুরো পাবনাবাসী ফুঁসে উঠেছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। একের পর এক এমন নারকীয় ঘটনায় শিশু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

০%
০%
০%
০%