মির্জাপুরে বাসচাপায় দুই কিশোর নিহত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় দুই কিশোর মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার জামুর্কী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই কিশোরের একজন হলেন ১৪ বছর বয়সী রুদ্র, যিনি মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী গ্রামের ডালিমের পুত্র। অন্যজন ১৫ বছর বয়সী ঝলক, যার বাড়ি গাজীপুর জেলার সফিপুর নস্করচালা এলাকায়; তিনি মৃত পঞ্চুর ছেলে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই দুই কিশোর জামুর্কী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা দিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছিল। এপ্রান্তে পৌঁছানোর আগেই ঢাকাগামী অজ্ঞাতনামা একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও পথচারীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহতের মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরীফ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটি পালিয়ে যাওয়ায় সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বাস ও এর চালককে আটকের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ব্যস্ততম এই মহাসড়কে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতদের পরিবার। মহাসড়কে দ্রুতগতির যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জামুর্কী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথচারী পারাপারের জন্য দ্রুত ওভারপাস বা গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানিয়ে তারা এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

০%
০%
০%
০%