জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলেও রাজধানীর বেশিরভাগ বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা ঝুলছে না—আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের পকেট কাটা হচ্ছে। বাসে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট না থাকায় পরিবহনকর্মীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এই নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন সড়কে চালক ও সহকারীদের সঙ্গে যাত্রীদের তুমুল বাক্বিতণ্ডা এবং ক্ষেত্রবিশেষে হাতাহাতির মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
নিয়ম অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাস তো বটেই, নগর পরিবহনেও যাত্রাপথের নির্দিষ্ট দূরত্ব ও ভাড়ার হার উল্লেখ করে বাসের ভেতরে তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা মহানগরী ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে চলাচলকারী বাসগুলো এই নিয়ম পুরোপুরি উপেক্ষা করে চলেছে। তেলের দাম বাড়ার দোহাই দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে চার্টবহির্ভূত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলেও দেখার কেউ নেই। সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে এই অর্থ আদায়ের ফলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, গত চার-পাঁচ দিন ধরে রাজধানীর সড়কে এই চরম নৈরাজ্য চললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের উদাসীনতার কারণেই পরিবহন শ্রমিকেরা পার পেয়ে যাচ্ছেন এবং যাত্রীরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বিবৃতিতে অবিলম্বে এই নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি চিরতরে বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়েছে। সংকট নিরসনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সব বাসে বাধ্যতামূলকভাবে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের কঠোর নজরদারির দাবিও জানানো হয়েছে।