ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে ৩১ জন শিক্ষার্থীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নির্ধারিত মিড ডে মিলের ডিম খাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক বালিয়াডাঙ্গীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক জানান, এর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এই নতুন ঘটনারও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। তদন্তে কারও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য এলার্জির কারণে এমনটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁওয়ের সাত উপজেলার মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে মিড ডে মিল কার্যক্রম শুরু হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ডিম, বনরুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট দেওয়া হয়। স্থানীয় সংস্থা ইএসডিও ডিম, পাউরুটি ও কলা, আরডি নামের একটি সংস্থা দুধ এবং প্রাণ কোম্পানি বিস্কুট সরবরাহ করে থাকে।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের ৩৪ জন শিক্ষার্থী মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই একই উপজেলার আরেকটি বিদ্যালয়ে পুনরায় ৩১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় মিড ডে মিলের খাবারের মান ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।