নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে কৃষকদের ভাগ্যবদলের স্বপ্ন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ধান কেটে আগাম শীতকালীন ফসল আলু বপন ও জমি প্রস্তুত করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় চাষিরা। গত বছর সেভেন জাতের আগাম আলুতে দারুণ লাভ হওয়ায় এ বছরও এই জাতের আলু চাষে রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কৃষকদের ভাগ্য বদলের অন্যতম প্রধান ফসলে রূপ নেওয়া এই আগাম আলু চাষে এ বছরও বড় ধরনের সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন স্বপ্নবাজ চাষিরা। তাই তারা এখন উঁচু জমিতে সেভেন জাতের আলু বপন শুরু করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেভেন একটি স্থানীয় আলুর জাত, যা শীতের আগে রোপণ করলেও তেমন ক্ষতি হয় না এবং ফলন বেশ ভালো পাওয়া যায়। সাধারণত নভেম্বর মাসের শুরুতে আলু বপনের উপযুক্ত সময় হলেও, গত বছর দেশের বাজারে প্রথম এই আলু ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা এ বছর সেপ্টেম্বরের শেষ সময় থেকেই আগাম আলু বপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন আলুর চাহিদা বেশি থাকায় এখানকার কৃষকরা ভালো দাম পেয়ে ব্যাপকভাবে লাভবান হন। কিশোরগঞ্জের কৃষকরা স্থানীয় সেভেন জাতের আগাম আলু চাষ করে থাকেন, যা বপন থেকে মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিন বয়সে উত্তোলন করা যায়। এত অল্প সময়ে অন্য কোনো ফসল থেকে এমন লাভ পাওয়া যায় না বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৬,৬৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার মধ্যে আগাম আলু চাষ হবে ৪,৪০০ হেক্টর জমিতে। কৃষকরা ইতোমধ্যে বপন শুরু করায় গত বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আলু চাষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রণচণ্ডী ইউনিয়নের কুঠিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর সাত্তার তার ৪০ শতাংশ জমিতে সেভেন জাতের আগাম আলু রোপণ করেছেন। তিনি দেশের প্রথম আলু উত্তোলন করে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রির আশা করছেন এবং এই দরে বিক্রি করতে পারলে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে বলে জানান। এছাড়া তিনি আরও দুই বিঘা জমি প্রস্তুত করেছেন এবং শুক্রবার থেকে বপন শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাহাগিলী, পুঁটিমারী ও নিতাই ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উঁচু জমিতে জমি প্রস্তুত শুরু করেছেন আলুচাষিরা। তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেভেন জাতের আলু রোপণ সম্পন্ন করবেন। বাহাগিলী ইউনিয়নের কৃষকদের মতে, সেভেন জাতের আলু তাদের কাছে সোনার ফসলের মতো এবং এটি এই এলাকার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলুচাষি দুলাল জানান, গত বছর প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে এই আলু চাষ করে লাভবান হওয়ার পর এবারও তিনি আগাম আলু রোপণ শুরু করেছেন, কারণ যার আলু বাজারে যত আগে উঠবে তিনি তত বেশি লাভবান হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, দেশের প্রথম আলু বপন ও উত্তোলন হয় এই এলাকায় এবং বাজারে প্রথম আসায় চাষিরা বেশ লাভবান হন। আগাম ধানে ভালো ফলন পাওয়ার পর কৃষকরা ওই জমিতেই আবার সেভেন জাতের আগাম আলু চাষে লাভবান হওয়ার আশায় বপন শুরু করেছেন। এই জাতের আলু কিশোরগঞ্জের কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ ও ভাগ্যবদলের ফসল। এ বছর কৃষকরা সেভেন জাতের পাশাপাশি কারেজ লাল আলুও বপন করছেন এবং এর চাহিদাও রয়েছে বলে তারা সেভেন জাতের মতোই লাভবান হওয়ার আশা করছেন।

০%
০%
০%
০%