জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

সিলেট সদর উপজেলার লাক্কাতুরা চা-বাগান ফ্যাক্টরি মাঠে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পণ্যের বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার দুপুরে চা-শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর মনিটরিং বা নজরদারি বজায় রাখা হবে। অন্যদিকে বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা একটি নির্বাচিত বিরোধী দল, তাই তাদের উচিত মুখরোচক ও রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা।

এর আগে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন চা-বাগানের ১০০০৮০ জন শ্রমিকের মাঝে রেইনকোট বিতরণ করা হয়। শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চা-বাগানের আয় বাড়ানোর জন্য বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চা-বাগানগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা-গাছের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ও গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে অতিরিক্ত গাছ বা বিকল্প ফসল হিসেবে কাঠের গাছ ও মসলার গাছ লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া যেসব বাগানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে যাতে বাগানের সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি পায়।

চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি চা-বাগানে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব বাগানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই, সেখানে নতুন স্কুল স্থাপন করা হবে এবং ভাঙা রাস্তাঘাট সংস্কার করা হবে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পরিকল্পিত এসব উদ্যোগের সুফল খুব দ্রুতই তারা ভোগ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আব্দুলাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ জোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও চা-শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা।

০%
০%
০%
০%