সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দুরাজপুর এলাকায় বকেয়া টাকা চাওয়ার জেরে একটি চায়ের দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকানদার মো. রুহুল ইসলাম বাদি হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম দুরাজপুর গ্রামের শুকুর মিয়ার ছেলে রুহুল ইসলামের চায়ের দোকান থেকে একই গ্রামের লিমন মিয়া নিয়মিত নগদ ও বাকিতে চা ও বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করতেন। এর ফলে লিমনের কাছে কিছু টাকা বকেয়া জমে যায়। ঘটনার দিন বকেয়া পাওনা টাকা চাওয়ামাত্র উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে মামলার ৫ নম্বর অভিযুক্ত জিল্লা মিয়ার প্রত্যক্ষ নির্দেশে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিকভাবে দোকানটির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। দোকানদার রুহুল ইসলাম এর তীব্র প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তিনি দ্রুত দৌড়ে নিরাপদে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর হামলাকারীরা দোকানে প্রবেশ করে চেয়ার, টুল, টেবিল ও খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল তছরুপ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় দোকানের সামনে রাখা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ক্যাশবক্স ভেঙে নগদ ছয় হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যান হামলাকারীরা। সব মিলিয়ে এই ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় ৭০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দোকানদার।
এদিকে হামলার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের সারং মিয়া। তিনি দাবি করেন, ওই চায়ের দোকানে মূলত ক্যারম খেলাকে কেন্দ্র করে এলাকার যুব ও কিশোররা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়েছিল, যা স্থানীয় মুরব্বিরা বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও বন্ধ করা হয়নি। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের মারামারি, হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। ওসমানীনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।