ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং সংস্কারের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে এই উদ্যোগকে আগামী বছরের নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন জার্মানির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্নড নিউয়েনডর্ফ।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর নিজের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় এই চিঠি দিয়েছেন ইনফান্তিনো। ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি কনফেডারেশন এবং অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত জুলাই মাসে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বিক্রির প্রস্তাবটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং কনকাকাফসহ বিভিন্ন মহাদেশীয় সংস্থার প্রবল বিরোধিতার মুখে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হন ফিফা সভাপতি।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উয়েফা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে যে, ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা নেই এবং সংস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন জরুরি। ফিফা কাউন্সিলের সদস্য বার্নড নিউয়েনডর্ফ মঙ্গলবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইনফান্তিনোর এই সংস্কার প্রস্তাব কেবলই নিজের পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত করার একটি স্বচ্ছ কৌশল। তিনি আরও বলেন, ফিফার সংস্কার প্রয়োজন—এটি এখন স্পষ্ট, কিন্তু জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই সংস্কার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। তার গ্রহণযোগ্যতা এখন তলানিতে ঠেকেছে।
আগামী মার্চ মাসে ফিফার পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী এখনো সামনে আসেনি, তবে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলো তার ক্ষমতা সীমিত করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ফিফা সভাপতির দাবি, সদস্য দেশগুলোর অবস্থান যাই হোক না কেন, তাদের প্রতি ফিফার উন্নয়নমূলক সহায়তা কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। তবে মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।