অপ্রতিম হত্যা: গ্রেপ্তার দুই কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আনা হয়েছে

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চার আসামির মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলায় গ্রেপ্তার করা অপর দুই আসামিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ওই দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো দুই কিশোর হলো মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ এবং কামরুল হাসান। তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশের পর তাদের কারাগারে না পাঠিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এর আগে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ কয়েকজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তুহিনের বয়স ১৯ বছর এবং অপর দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। গত সোমবার চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বয়স বিবেচনা করে দুই কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান জানান, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই শিশু অপরাধীকে গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তায় টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুর একটার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।

০%
০%
০%
০%