কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং পুলিশ সুপারের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের ফাঁসি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির দাবি জানান।
গত শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার থেকে সে নিখোঁজ ছিল। নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে তিনজন রোববার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান। এর আগে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, পুলিশ সুপার শুক্রবার রাতে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে এই মর্মান্তিক পরিণতি দেখতে হতো না। তারা ব্যর্থ পুলিশ সুপারের পদত্যাগ দাবি করে আগামী ষাট দিনের মধ্যে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার ও ফাঁসি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি কুমিল্লার কোতোয়ালি ও সদর দক্ষিণ থানার ওিসিদের প্রত্যাহার এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা জানান, এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ঘটনার মাত্র দশ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার দোকানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল। এছাড়া ড. নাহিদা বেগম সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। এই বিষয়গুলোর সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন ড. নাহিদা বেগম।
এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।