কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত এক মানববন্ধনে চাঞ্চল্যকর অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তের চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি ও নির্মম চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা উপস্থিত সকলের সামনে এই রোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের হাতে মামলার এক মূল আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর তার মোবাইল ফোনের ঘন ঘন আসা কয়েকটি অস্বাভাবিক কলের সূত্র ধরে তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তকারী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শুক্রবার অপ্রতিম বাসাতেই ছিল, তবে যেকোনো মূল্যে তাকে বাসা থেকে বের করে আনাই ছিল মূল অভিযুক্ত তুহিনের উদ্দেশ্য। তুহিন বারবার অপ্রতিমকে মেসেজ পাঠিয়ে বাইরে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত আইফোন দিয়ে টিকটক ভিডিও বানানো এবং ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে মায়ের মোবাইল ফোনটিসহ তাকে বাসা থেকে বের করে আনা হয়।
পুলিশের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুপুর তিনটার থেকে তিনটা দশ মিনিটের মধ্যে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয় এবং তারা স্বাভাবিকভাবে পাশাপাশি হেঁটে কথা বলতে বলতে এগোয়। চেনা লোকালয় ছাড়িয়ে মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরের আঁকাবাঁকা কাঁচা পথ ধরে তারা লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে গিয়ে পৌঁছায়।
তদন্তে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে অপ্রতিমের হাত থেকে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ঘাতকেরা। অপ্রতিম তার ফোনটি বাঁচাতে প্রতিরোধ গড়লে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় সজোরে আঘাত করে এবং অন্যরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের পর নিথর দেহ ফেলে রেখে শুধু মোবাইলটি নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক দল। এছাড়া সিয়াম নামের আরেক তরুণ ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও পাহারায় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অপ্রতিমের মরদেহে মাথায় গুরুতর আঘাত ছাড়াও অন্যান্য ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে রাতের বেলা হিংস্র কোনো প্রাণী মরদেহ ক্ষতবিক্ষত করে থাকতে পারে। চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত আসামিদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন।