লা লিগার হাইভোল্টেজ ডার্বিতে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। এই পরাজয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ল হোসে মরিনহোর শিষ্যরা। রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এটি চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় পরাজয়।
ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডিন হুইসেনের লাল কার্ড। ডি-বক্সের ভেতর জুলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করায় ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি তাকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে অ্যাটলেটিকোকে এগিয়ে দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। এরপর ৫৯ মিনিটে জোনাথন ডেভিড ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। শেষ দিকে আন্তোনিও রুডিগার একটি গোল শোধ করলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ কিন্তু গোলশূন্য। দুই দলই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলার চেষ্টা করায় মাঠের লড়াইয়ে সৃজনশীলতার চেয়ে উত্তাপই বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে জুড বেলিংহাম এবং অ্যাটলেটিকো ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর মধ্যকার ঘটনাটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। ভিএআর পর্যালোচনার পর রোমেরোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এছাড়া লি কাং-ইন ও ফেদেরিকো ভালভার্দের মধ্যকার সংঘর্ষ নিয়েও রিয়াল শিবির অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের তারকাখচিত আক্রমণভাগ—ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং জুড বেলিংহামকে পুরো সময়জুড়ে নিষ্প্রভ রেখেছেন অ্যাটলেটিকোর ডিফেন্ডাররা। হোসে মরিনহো প্রথমার্ধে সৃজনশীলতার চেয়ে রক্ষণাত্মক দৃঢ়তাকে প্রাধান্য দিয়ে অরেলিয়েন চুয়ামেনিকে একাদশে রাখলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়ুস ও আরদা গুলেরকে তুলে নিয়ে ইয়ান দিওমান্দে ও রুডিগারকে মাঠে নামালেও অ্যাটলেটিকোর সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি রিয়াল।
এই জয়ের ফলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তারা এখন শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৫ পয়েন্ট পিছিয়ে এবং রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। ডিয়েগো সিমিওনের কৌশলী ফুটবলের কাছে রিয়াল মাদ্রিদের হার লা লিগার শিরোপা দৌড়কে আরও নাটকীয় করে তুলল।