স্কুলে ঢুকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে মারধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় কথিত প্রেমিকার জন্য বিদ্যালয়ে ঢুকে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ ও সদস্যসচিব নিলয় হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নারকেলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম সুমন মোল্লা (১৩)। সে নারকেলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সুমনের বাবা-মা ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। মা-বাবা দূরে থাকায় সুমন ও তার ছোট ভাই হাসুয়া গ্রামে খালার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে আসছে।

ভুক্তভোগী সুমনের অভিযোগ, ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাজ্জাদ খন্দকার বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তাকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করেন। অভিযুক্ত সাজ্জাদ খন্দকার উপজেলার নারকেলবাড়ি গ্রামের আলমগীর খন্দকারের ছেলে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মারধরের শিকার সুমনের খালু সায়েম কাজী এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যালয়ের মতো নিরাপদ স্থানে ঢুকে একজন কিশোর শিক্ষার্থীকে কেন মারধর করা হলো—তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার নিরাপদ জায়গা, সেখানে এমন গুন্ডামি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে কোমলমতি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করা এবং এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

০%
০%
০%
০%