কুমিল্লা জেলার হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-২ আসনের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক জুয়েল হোসেন।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকের বক্তব্য থেকে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার অস্থায়ী নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ধানের শীষের সমর্থক মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মতিন খানের অনুসারীদের সঙ্গে সাংবাদিক জুয়েলকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি)। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জুয়েলের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করেই তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যার ফলে তিনি বর্তমানে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সাংবাদিক জুয়েল হোসেন দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষভাবে সমাজের মানুষের সুখ-দুঃখ ও বাস্তব চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরে আসছেন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংবাদ প্রকাশের কারণেই তাকে নানা ধরনের চাপ, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক যদি মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণে মিথ্যা মামলার শিকার হন, তাহলে সমাজে সত্য ও ন্যায়ের অবস্থান কোথায় থাকে? যথাযথ তদন্ত ছাড়া আদালতে প্রতিবেদন দাখিল হলে সাধারণ মানুষের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন উল্লেখ করে সাংবাদিক জুয়েল হোসেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিচার বিভাগের কাছে মামলাটির পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি অন্যত্র বদলি হওয়ায় মামলার দায়িত্ব এসআই সঞ্জয়ের নিকট হস্তান্তর করে চলে আসেন এবং এসআই সঞ্জয়ই প্রতিবেদন দিয়েছেন। অন্যদিকে এসআই সঞ্জয়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এসআই বিল্লাল তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন লিখে তাকে দিয়ে যান এবং তিনি কেবল শেষের অংশ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়েছেন।