আইলার চরে হারিয়ে যাওয়া ভিটাতেই ফিরলেন এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম, রিমান্ডে স্বামী ও প্রথম স্ত্রী

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রামের বাড়িতে গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে পৌঁছায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ। জীবনের শেষ যাত্রায় দশ বছর পর সেই চিরচেনা গ্রামের মাটিতে ফিরলেন তিনি, গভীর রাতে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম পাটোয়ারী।

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ সদস্য ভবন বা ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকায় ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন শেষে রাতেই তার মরদেহ পৈতৃক ভিটায় পৌঁছায়। প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে পুরো পরিবারটি ঢাকায় চলে যায় এবং রাজধানীর মগবাজার ও পল্লবী-কালশী এলাকায় বসবাস করে আসছিল। এরও আগে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আইলার প্রভাবে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ পরিবার নিয়ে চৌদ্দরশি গ্রাম ছেড়ে প্রথমে শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর এবং পরবর্তীতে যশোরের নওয়াপাড়ায় বসবাস শুরু করেছিলেন।

এই মৃত্যুর ঘটনায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। গত সোমবার আদালত শুনানি শেষে গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকসুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তবে মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মরিয়মের আকস্মিক ও রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। স্বজনদের জোরালো দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

০%
০%
০%
০%