ফেনী প্রতিনিধি: সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ফেনী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত ১৭ সেপ্টেম্বরের সফরটি স্থগিত হয়ে নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ১ অক্টোবর তার এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ফেনীর সার্বিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সামনে এনেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরীসহ বিভিন্ন মহল থেকে সোনাগাজীতে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, সোনাগাজী ও মুছাপুর রেগুলেটর সম্প্রসারণ ও পুনঃনির্মাণ, মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিতকরণ, ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং ফেনী সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ১৯৯৩ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালুর দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের সফর পেছালেও আগামী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে আগমন করবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছে। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া জানিয়েছেন, সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সফরের শুরুতে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় 최근 একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। মুহুরী নদীর তীরে উদ্বোধনী ফলক ও জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মানুষ দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যার আওতায় প্রায় আটষট্টি কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, নদী তীর সংরক্ষণ ও খাল পুনঃখনন করা হবে।
সফরের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ফুলগাজী সরকারি হাই স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেওয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাস্থল থেকেই ফুলগাজীকে দেশের নতুন পৌরসভায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দিতে পারেন সরকারপ্রধান। এর ফলে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলায় ছয়টি পৌরসভা গঠিত হবে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খালেদা জিয়ার মহিলা কলেজ সরকারীকরণ এবং ফুলগাজীর শ্রীপুরে নিজ নানার বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।