দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক সিরাতুন্নবী (সা:) মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং এই ব্যর্থতা সরকারকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। বুধবার রাতে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে মহানগর জামায়াত আয়োজিত এই মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সকল খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গিয়ে দেশের মানুষকে দুর্বিষহ যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে। রাষ্ট্র কোনো দোকান নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করাই সরকারের মূল দায়িত্ব এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ভর্তুকি দিতে হলে লাভ-ক্ষতির হিসাব না করে তা দিতে হবে, যেখানে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গত ছয় মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়সহ সব খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তেলের দামে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি মনে হলেও অর্থনীতিতে এর প্রভাব বিরাট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যই আজ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি চলছে ও চলবে বলে ঘোষণা দেন।

সিরাতুন্নবী (সা:) মাহফিলের মূল আলোচনায় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে কেন আগমন হয়েছিল তা প্রত্যেক মুসলমানকে জানতে ও বুঝতে হবে। বর্তমানে শুধু রবিউল আউয়াল মাস এলেই নবীর ওপর মাহফিল ও জশনে জুলুস চলতে দেখা যায়, তবে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত রবিউস সানি মাসে সিরাতুন্নবী মাহফিল আয়োজন করে প্রমাণ করেছে যে নবীকে নিয়ে আলোচনা শুধু এক মাসে নয়, বরং সারা বছর, সারা মাস, দিন থেকে দিন এবং যুগ যুগ ধরে চলা দরকার।

কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তা অনুসরণ করলে পুরো দুনিয়ায় শান্তি নেমে আসবে। পৃথিবীর একমাত্র রক্তপাতহীন বিজয় মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে তিনি পুরো পৃথিবীর সব জাতির জন্য যে ইনসাফ সৃষ্টি করে গেছেন, তা অনুসরণ করলে পুরো পৃথিবী ন্যায়বিচার পাবে। মানুষের তৈরি মতবাদ বাদ দিয়ে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করতে ইসলাম কায়েমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মহানবীর আদর্শ ধারণ করে ইসলামী সমাজ কায়েম করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সৃষ্টি যাঁর আইন চলবে তাঁর, সংসদ থেকে গণভবন সব জায়গায় কোরআনের আইন চলতে হবে এবং বাংলাদেশে ইসলাম প্রবেশের দরজা এই বীর চট্টগ্রাম থেকেই সেই বিজয় শুরু হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার। এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ নগর ও জেলা জামায়াতের নেতারা। অনুষ্ঠান শেষে জামায়াতের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে।

০%
০%
০%
০%