১ অক্টোবর ফেনী আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেগা প্রকল্পের উদ্বোধনে প্রস্তুতি তুঙ্গে প্রশাসন ও বিএনপির

ফেনী জেলায় সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো সফর করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত ১৭ সেপ্টেম্বরের সফরসূচি পরিবর্তিত হয়ে আগামী ১ অক্টোবর নতুন দিন নির্ধারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা ফেনী জেলাজুড়ে বইছে আনন্দের হাওয়া। প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রস্তুতিমূলক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। দফায় দফায় প্রশাসনিক বৈঠক ও দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরকে ঘিরে জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি সামনে নিয়ে এসেছেন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে ফেনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি সবচেয়ে বেশি আলোচনা লাভ করেছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব সোনাগাজীতে জেগে ওঠা বিশাল চরাঞ্চলে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল বা বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সমুদ্র বন্দর নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি মুছাপুর রেগুলেটর পুনঃনির্মাণ, সোনাগাজী রেগুলেটর সম্প্রসারণ, কহুয়া-মুহুরী বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প এবং ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী ফেনী সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি পেশ করেছেন।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের সফর স্থগিত হলেও ১ অক্টোবর তিনি ফেনীতে আগমন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল করতে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের মুহুরী নদীর তীরে উদ্বোধনী ফলক ও জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফ প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছে। পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ চলছে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রধান সড়কের সংযোগস্থলগুলো সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন করছে।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া জানিয়েছেন, সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সফরে পার্শ্ববর্তী ফুলগাজী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং খালেদা জিয়ার মহিলা কলেজ সরকারীকরণের কর্মসূচির প্রস্তুতিও চলমান রয়েছে। সফরের শুরুতে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান। এই প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে নদীভাঙন ও বন্যার কবল থেকে বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ স্থায়ী সুরক্ষা পাবে।

সফরের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তাঁর নানার বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ফুলগাজী সরকারি হাই স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই জনসভা থেকেই ফুলগাজীকে দেশের নতুন পৌরসভায় উন্নীতকরণের ঘোষণা আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া ১৯৯৩ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালুর জোরালো দাবিও তুলে ধরছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

০%
০%
০%
০%