মির্জাগঞ্জে সাড়ে ছয় কোটি টাকার সেতু সংযোগ সড়কের গাইডওয়ালে ফাটল, সংস্কার ছাড়াই চলছে বালুর বস্তা দেওয়ার কাজ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে শ্রীমন্ত নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাঁঠালতলী ও রামপুর সেতুর সংযোগ সড়কের গাইড ওয়ালে ফাটল ধরে তা ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ভাঙা অংশ মেরামত না করেই সেখানে বালুর বস্তা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এতে সংযোগ সড়কের ওপর রাখা বালুভর্তি বস্তা ও মাটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে ২০২০-২১ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেতুটি নির্মাণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ৭৬ টাকা। বরিশাল এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন যৌথভাবে এই কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। সেতুটির নদীর ওপরের অংশের নির্মাণকাজ শেষ হলেও বর্তমানে সংযোগ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাইড ওয়ালের খুঁটি ও বিম নির্মাণে ইট, বালু এবং সিমেন্ট সঠিক অনুপাতে ব্যবহার করা হয়নি, যার ফলেই এই ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন কাজে অনিয়ম দেখতে পেয়ে বাধা দিলেও ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকেরা তাতে কোনো কর্ণপাত করেননি। জসিম উদ্দিন নামের এক অটো রিকশাচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পাটের বস্তায় বালু ও সিমেন্ট সঠিকভাবে মিশ্রণ না করেই তা দিয়ে সড়কটি রক্ষার কাজ করা হচ্ছে।

প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ তদারকিতে এই নির্মাণকাজ চলার কথা থাকলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে এমন ব্যাপক অনিয়মের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত এই অনিয়মের তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এবং মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%