বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হওয়া ১৮ জেলেকে উদ্ধারে প্রশাসনের অপারগতা

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে আটকা পড়েছেন ১৮ জন জেলে। গত শনিবার ভোররাতে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর থেকেই তারা মাঝসাগরে অবস্থান করছেন।

রাজধানীর রামপুরা এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ফরহাদ পাটোয়ারীর ছেলে জুনায়েত হাসান জানান, গত শনিবার সকালে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে মাঝি হানিফ মিয়াসহ ১৮ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ট্রলারটি সাগরে মাছ ধরতে যায়। ওই দিন ভোররাতেই ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরে ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়া মুঠোফোনে বিষয়টি তার বাবাকে জানিয়ে সহযোগিতা চান। এরপর জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করার পাশাপাশি রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের কাছে একাধিকবার ফোন করে উদ্ধারের সহায়তা চাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী ট্রলারের মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তার বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে শেষ কথা হয়। তখন তারা জানান, বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল রয়েছে। ট্রলারের আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারকে হাত ইশারা করে সহায়তা চাওয়া হলেও উত্তাল সাগরের কারণে কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে সাগরে যাওয়া এই জেলেদের বাড়ি ওই অঞ্চলেই।

এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও উদ্ধার সক্ষমতার সংকটের কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপযুক্ত নৌযান, পর্যাপ্ত জনবল ও উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, বিপদগ্রস্ত জেলেদের অবস্থান সোনারচর মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এবং সেখানে পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগায় উদ্ধারকারী দলের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। বিষয়টি ভোলা কোস্টগার্ডকে জানানোর পাশাপাশি চরমোন্তাজ ট্রলার মালিক সমিতিকে সহায়তা চাওয়া হলেও তারাও খরচ ও নিরাপত্তার কারণে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ইনচার্জ মো. জায়েদুর রহমান জানান, উপযুক্ত নৌযান ও উদ্ধারসামগ্রী না থাকলেও সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান জানান, বিপদগ্রস্ত জেলেদের মালিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের উদ্ধারের বিষয়ে কাজ চলছে।

০%
০%
০%
০%