গোসাইরহাটে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জলাবদ্ধতা, বাড়ছে ডেঙ্গুর শঙ্কা

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার গোসাইরহাট-মোল্লার বাজার সড়কের শুরুতেই প্রায় ১২০ মিটার অংশে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের ভাঙাচোরা ও নিচু অংশে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকেরা। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ায় বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প বৃষ্টি হলেই সড়কের ওই অংশে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত জলাবদ্ধতা কাটে না। ফলে পথচারীদের জমে থাকা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভ্যান, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে দুর্ভোগ।

স্থানীয় যানবাহন চালক শরীফ বলেন, বৃষ্টির সময় সড়কের পানি জমে থাকায় গাড়ি রাখাসহ চলাচলে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে সড়কের পাশের যানবাহন স্ট্যান্ডের কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এদিকে গোসাইরহাট বাসস্ট্যান্ডের পাশের হেলিপ্যাড মাঠসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানেও বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এসব জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রকোপের সময়ে এ ধরনের জলাবদ্ধতা স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

গোসাইরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান বলেন, সড়কের ওই অংশে পানি জমার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর জায়গাটি পরিদর্শনও করা হয়েছে। বৃষ্টির সময় সেখানে পানি জমলেও পরে পানি নেমে যায়। ওই সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে এবং এরই মধ্যে প্রাক্কলন করা হয়েছে। দ্রুতই সড়কের কাজ শুরু হওয়ার আশা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্ট্যান্ডের আশপাশে পানি জমার বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হবে এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সড়কের ভাঙাচোরা অংশ সংস্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সড়কের পাশের হেলিপ্যাড মাঠসহ আশপাশের জলাবদ্ধ স্থানগুলোর পানি দ্রুত নিষ্কাশন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এতে একদিকে মানুষের চলাচলের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

০%
০%
০%
০%