চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পরিবেশদূষণ রোধে এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকায় ১৭টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। শীত মৌসুম শুরুর আগেই এসব ইটভাটার চুল্লিতে আগুন জ্বালানোর প্রস্তুতি চলছিল। এর অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাটি কাটা, ইট তৈরির কাজ এবং চিমনি মেরামতের ব্যস্ততা শুরু হলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোজাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিকদের হাতে বন্ধের নির্দেশসংবলিত নোটিস তুলে দেওয়া হয়। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এসব ইটভাটার বেশিরভাগই সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও স্থির চিমনি ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেগুলোর কোনো পরিবেশগত ও অবস্থানগত ছাড়পত্র ছিল না।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্ধের নির্দেশ পাওয়া ১৭টি ইটভাটার মধ্যে ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মঘাইছড়ি এলাকার মেসার্স মক্কা মদিনা ব্রিকস, মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস, মেসার্স আবদুল করিম ব্রিকস এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স সাদেক শাহ ব্রিকস ও মেসার্স চট্টগ্রাম ব্রিকস রয়েছে। এছাড়া ইসলামপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স খাজা ব্রিকস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকস, মেসার্স বিসমিল্লাহ খাজা আজমির ব্রিকস ও আল মদিনা ব্রিকস নোটিস পেয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছে রাজানগর মধ্য ঘাগড়ার ত্রিপুরা সুন্দরী দীঘি এলাকার দরবার অ্যান্ড কোম্পানি, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাজার গেট এলাকার মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস, ১ নম্বর ওয়ার্ডের বহড়াতল এলাকার মেসার্স বাগদাদ ম্যানুফ্যাকচারিং ব্রিকস, উত্তর ঘাগড়া এলাকার হাজী আতর আলী ব্রিকস, তারাবুনিয়া এলাকার মেসার্স আজমির ব্রিকস, মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং, মেসার্স কেএম ব্রিকস এবং মেসার্স হোসাইনুজ্জামান শাহ ব্রিকস।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানান, অবৈধ ইটভাটার সঙ্গে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা, কাঠ পোড়ানো এবং বায়ুদূষণের মতো গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি জড়িত। চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া জনবসতি, কৃষিজমি ও গাছপালার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং উর্বর মাটি ব্যবহারের ফলে জমির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার আদেশ অনুযায়ী এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হাসান জানান, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি ইটভাটাকে নোটিস দিয়েছে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এসব ভাটা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। নোটিস দেওয়ার পরও কেউ ভাটা চালুর চেষ্টা করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত মামলা দায়ের, সরঞ্জাম জব্দ এবং উচ্ছেদসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।