ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আন্দিদিল গ্রামে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দ্রুত হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
নিহত শিশু মাহিদা স্থানীয় একটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। সে আন্দিদিল গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল মিয়ার মেয়ে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দুপুরে মাহিদার মা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে উপজেলা শহরে যান। এ সময় বাড়িতে দুই মেয়েকে রেখে যান তিনি। ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে শিশুটির চাচা জাহিদুল ইসলাম মাহিদাকে পানি খাওয়ানোর নাম করে নিজের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে মায়েরাহিদার সন্ধান না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে তিনি জাহিদের ঘরে প্রবেশ করে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। মায়ের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত জাহিদের বাড়ি ভাঙচুর করেন এবং তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত জাহিদুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণ ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জাহিদুলকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এই নৃশংস অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকজুড়ে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে জড়িত একমাত্র ব্যক্তির দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।