ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় বসতঘরের বারান্দার সিঁড়ি নির্মাণ নিয়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে ভাতিজার লাঠির আঘাতে জাহিদুল বিশ্বাস (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকায় মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জাহিদুল বিশ্বাস ওই এলাকারই বাসিন্দা। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জাহিদুল বিশ্বাস তার বসতঘরের বারান্দার সিঁড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় তার আপন বড় ভাইয়ের ছেলে সাইমন বিশ্বাস ও শাকিল বিশ্বাস সেখানে এসে কাজে বাধা দেন এবং সিঁড়ির অবস্থান নিয়ে আপত্তি তোলেন। বিষয়টি নিয়ে জাহিদুল বিশ্বাসের সঙ্গে তার ভাতিজাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইমন ও শাকিল হাতে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে চাচা জাহিদুলের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল বিশ্বাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, দিনদুপুরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের শোকাহত পরিবারের সদস্যরা।