জয়পুরহাটে কোটি টাকার কষ্টিপাথরের দুটি মূর্তি জব্দসহ আটক তিন

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতে পাচারের প্রাক্কালে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বাজারমূল্যের দুটি বিশালাকার কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে প্রাচীন প্রত্নসম্পদ পাচারের একটি বড় প্রচেষ্টাকে যৌথ অভিযانের মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, একটি আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচার করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন একটি চালান আটকের প্রস্তুতি নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর অংশ হিসেবে উপজেলার সীমান্তবর্তী দইহারা গ্রামে বিজিবি ও পুলিশের একটি বিশেষ যৌথ দল অতর্কিত অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে পাচারকারীদের আস্তানা থেকে দুটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন—কালাই উপজেলার দইহারা গ্রামের আলিপ হোসেন (২২) ও সরজিনা আক্তার (৩০) এবং পার্শ্ববর্তী জিড়াই গ্রামের এনামুল হক (৫০)।

উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলোর সত্যতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব যাচাই করতে সেগুলোকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মূর্তিগুলো খাঁটি কষ্টিপাথরের তৈরি বলে নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে জয়পুরহাট জেলা সদরে নিয়ে ডিজিটাল পাল্লায় মাপার পর দেখা যায়, বড় মূর্তিটির ওজন ১১৯ কেজি এবং ছোট মূর্তিটির ওজন ১৬ কেজি ৮৭০ গ্রাম। বিজিবির নির্ধারিত বাজারমূল্য অনুযায়ী এই দুই নিদর্শনের মোট মূল্য ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তি এবং আটক তিন অভিযুক্তকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তবর্তী জনপদে দেশের অমূল্য ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের যৌথ অভিযান ও কঠোর নজরদারি নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

০%
০%
০%
০%