কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় হাওরের জলমহাল ইজারা এবং দলীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা বিএনপি কমিটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। প্রায়শই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অনুসারীরা মুখোমুখি অবস্থানে আসতেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনবহুল বাজারে হঠাৎ এমন সহিংসতায় সাধারণ পথচারী ও ক্রেতারা দিক্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে, সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত এক সংবাদকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।