ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধিমালা লঙ্ঘনের ঘটনায় মোট ১১৪৫টি অভিযোগের মধ্যে প্রায় সবকটিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। দ্য অ্যাথলেটিকের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা ইংলিশ ফুটবলে এক বিশাল ভূকম্পনের সৃষ্টি করেছে। তবে ক্লাবের বিরুদ্ধে কি ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তি আসছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে স্কাই ব্লুজরা।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ম্যানচেস্টার সিটির কপালে নেমে আসতে পারে কঠোর শাস্তির খড়্গ। পয়েন্ট টেবিল থেকে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কাটা, ভারী আর্থিক জরিমানা থেকে শুরু করে অতীতে ক্লাবটির জেতা লিগ শিরোপা কেড়ে নেওয়া এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন ঘটানোর মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। এর আগে ২০০৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মালিকানাধীন হওয়ার পর থেকেই ম্যানচেস্টার সিটি ইংলিশ ফুটবলের অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়। গত ১৫ মৌসুমের মধ্যে ৮টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাসহ ২০২৩ সালে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্রফি ঘরে তোলে তারা।
মূলত ২০১৮ সালে জার্মান ম্যাগাজিন ডের স্পিগেল কর্তৃক ফাঁস হওয়া কিছু ইমেইল ও নথিপত্রের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। ১১৪৫টি অভিযোগের মধ্যে ৮০টি অভিযোগই ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক বিধিমালা লঙ্ঘনের সাথে জড়িত এবং বাকি ৩৫টি অভিযোগ তদন্তের সময় প্রিমিয়ার লিগকে সহযোগিতা না করার। ফাঁস হওয়া নথিতে অভিযোগ করা হয়, আমিরাতের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিমান সংস্থা ইতিহাদ এবং টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান ইতিসালাতের মাধ্যমে স্পন্সরশিপের আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছিল ক্লাবটি। এছাড়া তখনকার কোচ রবার্তো মানচিনিকে অফ-দ্য-বুক বা গোপনে অর্থ প্রদানের অভিযোগও রয়েছে।
এই সমস্ত অভিযোগ বরাবরই জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রিমিয়ার লিগের এই প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং গোপনীয়তার বিষয়গুলো কঠোরভাবে বজায় রাখা হচ্ছে। এর আগেও ২০২০ সালে উয়েফার দেওয়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস বা ক্যাসের মাধ্যমে সফলভাবে বাতিল করিয়েছিল ক্লাবটি। এখন এই আর্থিক অনিয়মের রায়ের বিরুদ্ধে ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে কী করে এবং কী শাস্তি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে, সেটাই দেখার বিষয়।