রোমে বেলজিয়ামের কাছে ইতালির অসহায় আত্মসমর্পণ ও মানচিনির দুঃসময় অব্যাহত

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির দুর্দশা কাটছে না। নেশনস লিগের ম্যাচে নিজেদের মাঠে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হেরে মাঠ ছেড়েছে আজ্জুরিরা। ঘরের মাঠে এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স ইতালিয়ান ফুটবলের বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থারই প্রতিফলন।

ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় মিকা গটস যখন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করে বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন, তখন থেকেই অলিম্পিক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শকদের দুয়ো ধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। ৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪৭ হাজার ১৫৫ জন দর্শক। কেভিন ডি ব্রুইনার সহায়তায় গটস ইতালির তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করলে ইতালির রক্ষণভাগের দুর্বলতা প্রকট হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে বেলজিয়ামের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দোদি লুকিবাকিও। ইতালির মিডফিল্ডার আলেসান্দ্রো রোমানোর একটি ভুল পাস থেকে শুরু হওয়া প্রতি-আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় স্বাগতিকদের। স্যান্ড্রো তোনালি শেষ মুহূর্তের মরিয়া প্রচেষ্টাতেও লুকিবাকিওকে আটকাতে ব্যর্থ হন, যার ফলে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শটে বল জালে জড়ান বেলজিয়ামের এই ফরোয়ার্ড।

ইতালির ডাগআউটে রবার্তো মানচিনির প্রত্যাবর্তন মোটেও সুখকর হয়নি। তিন বছর আগে সৌদি আরবের কোচ হওয়ার জন্য দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া মানচিনিকে টাচলাইনে বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল। অন্যদিকে, নতুন কোচ মার্ক ফন বোমেলের অধীনে বেলজিয়ামের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। রক্ষণভাগে আলেসান্দ্রো বাস্তোনির অনুপস্থিতিতে দিয়াগো কোপ্পোলা ও জিয়ানলুকা মানচিনির জুটি বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের নিয়মিত আটজন খেলোয়াড়কে একাদশে রেখেও কোনো সুফল পায়নি ইতালি। নেশনস লিগের প্রথম ধাপের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করবে ইতালি, এরপর শুক্রবার তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। বোলোগনায় তুরস্কের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বের প্রথম ধাপ শেষ করবে মানচিনির শিষ্যরা।

০%
০%
০%
০%