ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লীগের আর্থিক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ম্যানচেস্টার সিটি'র বিরুদ্ধে আনা প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক ফেয়ার প্লে সংক্রান্ত ১১৪টি অভিযোগের প্রায় সবকটিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ক্লাবটি। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহু বছরের তদন্ত ও শুনানির পর এই চাঞ্চল্যকর রায় ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ উত্থাপনের পর থেকেই এই মামলার গতিপ্রকৃতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। সিটি'র বিরুদ্ধে অসত্য আর্থিক তথ্য প্রদান, আর্থিক ফেয়ার প্লে নিয়ম লঙ্ঘন, তদন্তে অসহযোগিতা, লাভজনকতা ও স্থিতিশীলতা বিধি ভঙ্গ এবং চুক্তি গোপন করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা আগেই বলেছিলেন যে, প্রিমিয়ার লিগের অভিযোগের পর ক্লাবটিকে ইতিমধ্যেই "দোষী" সাব্যস্ত করা হয়েছে। তিনি উয়েফার পূর্ববর্তী অভিযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে ক্লাবটি নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করেছিল।

গার্দিওলা দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি চেয়েছিলেন, কারণ তার অধীনে সিটি ছয় মৌসুমে পঞ্চম লিগ শিরোপা জিতেছিল। তিনি বলেছিলেন, "আর দু'বছর অপেক্ষা নয়। কেন আমরা দ্রুত এটি শেষ করছি না? ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনজীবীদের নিয়ে বসুন। সবার ভালোর জন্য যত দ্রুত সম্ভব এটি হোক।" অন্যদিকে, ক্লাব চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক এই পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এটি দলের ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ের অর্জনকে ম্লান করছে। তিনি আশা করেন, মানুষ যেন খেলোয়াড়দের ফুটবলের জন্য এবং মাঠে তাদের সাফল্যের জন্য বিচার করে।

যদিও উয়েফার পূর্ববর্তী মামলায় কিছু অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং কিছু অভিযোগ সময়-সীমাবদ্ধতার কারণে বাতিল হয়েছিল, তবে সিটি'র বিরুদ্ধে তদন্তে "প্রকাশ্য অবজ্ঞা" এবং "মারাত্মক" অসহযোগিতার প্রমাণ মিলেছিল। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে ম্যানচেস্টার সিটি রেকর্ড পরিমাণ ৭১২.৮ মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব এবং ৮০.৪ মিলিয়ন পাউন্ড নিট মুনাফা অর্জনের কথা জানালেও, প্রিমিয়ার লিগের সিইও রিচার্ড মাস্টার্স নিশ্চিত করেছেন যে, সিটি'র আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে এবং প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে।

০%
০%
০%
০%