জিদান যুগের সূচনাটা হলো জয় দিয়ে, তবে সেই জয়ের আনন্দ কিছুটা ফিকে হয়ে গেল কিলিয়ান এমবাপ্পের ইনজুরির খবরে। উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ফ্রান্স। কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের প্রথম ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে রইল এমবাপ্পের একমাত্র গোল এবং পরবর্তীতে তার মাঠ ছাড়ার ঘটনায়। ইজমিতে অবস্থিত কোজেলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে এমবাপ্পের পা থেকে, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৬৭তম গোল।
ম্যাচের শুরু থেকেই নতুন কৌশলে দল সাজান জিদান। সাবেক কোচ দিদিয়ে দেশমের অধীনে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও, জিদান এমবাপ্পেকে সরিয়ে নিয়ে আসেন বাঁ-প্রান্তের উইংয়ে। এই কৌশল দারুণভাবে কাজে দেয়। মাইকেল ওলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে নিপুণ দক্ষতায় নিচু শটে বল জালে জড়ান ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে গোল উদযাপনের সময় থেকেই তাকে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর মাঠে ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাম হাঁটুর ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই তারকা। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে।
জিদানের নতুন অধ্যায়ের প্রথম ম্যাচে এমবাপ্পের এই চোট এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স এবং রিয়াল মাদ্রিদ উভয় শিবিরের জন্যই। আগামী ১০ দিনে ফ্রান্সকে আরও তিনটি ম্যাচ খেলতে হবে, যার ফলে তার ইনজুরির গভীরতা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। তবে মাঠের খেলায় ফ্রান্সের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধে বায়ার্ন মিউনিখের তারকা মাইকেল ওলিসের একটি দুর্দান্ত শট তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির কোনোমতে প্রতিহত করেন। দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্কের আব্দুলকারিম বারদাকচির একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেইনয়ান।
ম্যাচের শেষ দিকে ফ্রান্সের ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ ছিল, কিন্তু জুলস কুন্দের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। নাটকীয়তার শেষ হয় তুরস্কের দশজনের দলে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে। বদলি খেলোয়াড় ব্র্যাডলি বারকোলাকে আটকাতে ডি-বক্সের বাইরে এসে হাত দিয়ে বল স্পর্শ করেন তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি ফেলিক্স জাওয়ার তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে তুরস্কের লড়াইয়ের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যায়।
এই জয়ের ফলে নেশনস লিগের গ্রুপ এ১-এ নিজেদের অবস্থান মজবুত করল ফ্রান্স। আগামী সোমবার ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে জিদানের শিষ্যরা। অন্যদিকে, বেলজিয়াম নিজেদের ম্যাচে ইতালিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। জিদানের কোচিং ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায়টি শুরু হলো জয় দিয়ে, তবে এখন সবার নজর থাকবে এমবাপ্পের ফিটনেস রিপোর্টের দিকে। আগামী শুক্রবার স্তাদ ডি ফ্রান্সে ইতালির বিপক্ষে জিদানের ঘরের মাঠে অভিষেক ম্যাচে এমবাপ্পেকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জল্পনা।