ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন মাউরিসিও পচেত্তিনো

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় এবং ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন মার্কিন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি স্থগিত করায় তৈরি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। পচেত্তিনো স্বীকার করেছেন যে, সেই সিদ্ধান্তের পর দলের ভেতর যে নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে তার আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত ছিল।

বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার বিষয়টি ফুটবলাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পচেত্তিনো মনে করেন, মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তের পর এমন পরিবর্তন দলের সামগ্রিক মানসিক শক্তি ও পরিবেশকে মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিয়েছিল। তার মতে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি তখন আর স্বাভাবিক নিয়মে চলেনি, বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতির চাপে দলের খেলার ধরনে বড় প্রভাব পড়েছিল। আর্জেন্টাইন এই কোচের মতে, মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা দলের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেই ম্যাচে হারের কারণ হিসেবে কোনো কৌশলগত ভুল বা দল নির্বাচনে ত্রুটিকে দায়ী করতে নারাজ পচেত্তিনো। তার দৃঢ় বিশ্বাস, মাঠের বাইরের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তই দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। তিনি মনে করেন, ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সীমিত ও সুশৃঙ্খল হওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে ফুটবল ফেডারেশনকে আরও সতর্ক ও অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, বালোগুন বিতর্ক নিয়ে ফিফার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন। নিষেধাজ্ঞার শাস্তি কেন স্থগিত করা হলো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষেত্রে কী নিয়ম অনুসরণ করা হবে, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ফিফা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ তাদের। এই অস্পষ্টতা দূর করতে আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় রাখার দাবি জানিয়েছে বেলজিয়াম।

বিশ্বকাপের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে। আগামী শনিবার অরল্যান্ডোতে পেরুর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে পচেত্তিনোর শিষ্যরা। এরপর মঙ্গলবার চিলির মুখোমুখি হওয়ার পর আগামী সপ্তাহে মেক্সিকো ও কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি। নতুন করে জয়ের ধারায় ফিরে বিশ্বকাপের সেই ব্যর্থতার রেশ কাটিয়ে ওঠাই এখন মার্কিন শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।

০%
০%
০%
০%