মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে শিক্ষকদের সঠিক মূল্যায়নের বিকল্প নেই

একটি শিশুকে জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে ভবিষ্যতের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অনন্য এবং অপরিহার্য। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে নেতৃত্ব ও নৈতিকতার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরিতে তাদের অবদান অপরিসীম। অথচ শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও সঠিক মূল্যায়ন না করা হলে একটি মেধাভিত্তিক, নীতিবান ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। শিক্ষকদের কেবল আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে তাদের উপযুক্ত সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ এসব কথা বলেন। উপজেলার মুরাদপুরস্থ শহীদ ক্যাপ্টেন শামছুল হুদা উচ্চ বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক শ্রী আশুতোষ চক্রবর্তীর স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় সীতাকুণ্ডের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি নিয়ে আলোকপাত করে প্রধান অতিথি বলেন, জন্মের পর প্রতিটি শিশুই অবুঝ ও অজ্ঞ থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, আদব-কায়দা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষকই তাকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে রূপদান করেন। নিজেদের মেধা, শ্রম ও ঐকান্তিক নিষ্ঠা দিয়ে শিক্ষকেরা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করেন, যারা পরবর্তীতে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে সামলান। তাই জাতি গঠনের এই নিবেদিতপ্রাণ কারিগরদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষকদের সম্মান জানানো নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। তাদের দায়িত্ব পালনের উপযোগী পরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সঠিক আর্থিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষকেরা যদি পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান, তবে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজে নৈতিকতা ও সুশাসনের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রয়াত প্রধান শিক্ষক আশুতোষ চক্রবর্তীর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, তিনি ছিলেন সীতাকুণ্ডের শিক্ষা বিস্তারে নিবেদিতপ্রাণ এক মহান ব্যক্তিত্ব। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রসারে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর মধ্যে জ্ঞান ও সততার আলো ছড়িয়ে গেছেন। তার হাতে গড়া শিক্ষার্থীরা আজ দেশে ও বিদেশে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের মাঝেই মূলত একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত থাকে।

আবুল কাশেম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া ও এমরান হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর ও সদস্যসচিব মোহাম্মদ মোরছালিন। এছাড়া সভায় আরও বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল মান্নান, দিদারুল আলম, কর্নেল ফখরুদ্দিন, নিলাঞ্জনা এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিল্টু কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রয়াত শিক্ষকের আদর্শকে ধারণ করে শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

০%
০%
০%
০%