ঢাকা বেনাপোল মহাসড়কের লোহাগড়ায় বড় গর্ত মরণফাঁদ হাজারো যাত্রীর চরম ভোগান্তি

ঢাকা-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তা এলাকায় সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক মোড়টি এখন প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে যশোর জেলার বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই মহাসড়কটি দেশের অন্তত ১০টি জেলার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ভারী ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ অগণিত যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে লোহাগড়া পৌরসভার লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তা পয়েন্টটি অত্যন্ত জনবহুল। এখানে বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টার থাকায় এবং নিয়মিত যাত্র ওঠানামা করায় স্থানটি সারাদিনই চরম ব্যস্ত থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে চৌরাস্তার এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে পুরো সড়ক ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলের সময় তীব্র ঝাঁকুনি লাগে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের দাবি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ব্যস্ত মোড়টি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে লোহাগড়া পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান সান্টু, রূপক মুখার্জি, স্থানীয় শ্রমিক নেতা তিতু গাজী, দীপু মিয়া ও মনির খানসহ বিশিষ্টজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের এমন বেহাল দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে সড়কটি মেরামত করতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

পরিস্থিতির বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল এবং তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের আশ্বাসে দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে কাজ না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে আজই পুনরায় সওজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, সড়কের বেহাল দশা ও সংস্কার কাজের ধীরগতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নড়াইল জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

০%
০%
০%
০%