দৌলতখানে ইউপি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১০

ভোলার দৌলতখানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যার দিকে দৌলতখান দক্ষিণ বাজার সংলগ্ন উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় চত্বরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে দৌলতখান উপজেলা বিএনপি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদপ্রত্যাশীদের মাঝে দলীয় ফরম বিতরণ ও জমাদানের কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা ঘিরে এই প্রক্রিয়া চলাকালে সন্ধ্যায় পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলমগীরের সমর্থকরা ফরম সংগ্রহ করতে গেলে প্রতিপক্ষ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম কবির স্বপনের অনুসারীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাঁধে। মুহূর্তের মধ্যে উভয় পক্ষের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

সংঘর্ষের পর থেকেই দৌলতখান বাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাত ৯টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অপরপক্ষের নেতা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম কবির স্বপন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তার সমর্থকদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি এবং এ বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।

এদিকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়ে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও ভবানীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মাস্টার জানান, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও দলীয় নীতিমালা অনুসরণ করেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে ফরম বিতরণ ও জমাদানের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দৌলতখানে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার যেকোনো আশঙ্কা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নির্দেশে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দৌলতখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফখরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা রোধে দৌলতখান বাজার ও দলীয় কার্যালয় চত্বরে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

০%
০%
০%
০%