কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় জলমহাল দখল ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করেছে জেলা বিএনপি।
শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শুক্রবার উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়া বাজার এলাকায় 'বিল মাসকা' নামক একটি জলমহালের দখল নিয়ে সৈয়দ সাঈদ আহমেদের সরাসরি নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ন্যাক্কারজনক সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের দৃশ্য ও সংবাদ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় দেশজুড়ে দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এই অনভিপ্রেত ঘটনার নেপথ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী ও চূড়ান্ত সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামের যৌথ কার্যালয়ে এই ব্যাখ্যা সশরীরে বা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারক মহলের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরহস্তে দমন করা না হলে তা সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।