রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ চালু

কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত আগস্ট মাস থেকে পরীক্ষামূলক ও সীমিত পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু হলেও তা এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডের শক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

শনিবার দুপুরে উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদিত হয়। পরিবেশ দূষণ রোধ ও এই বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। সরকারের এই দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ এবং মানসম্মত সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী উখিয়ার ২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সরেজমিন ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শনের সময় প্রকল্পটিকে একটি যুগান্তকারী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ক্যাম্পের নিত্যদিনের আবর্জনা এখন দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে উখিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী জি এম মুকতাদির জানান, গত আগস্ট মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই কেন্দ্র থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে অচিরেই আরও একটি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমদ, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, কক্সবাজারের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনের মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, কক্সবাজারের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বা পরিকল্পনা যখনই গ্রহণ করা হয়, তখনই একটি মহল আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং সেই আইনি প্রক্রিয়াকে অপব্যবহার করে উন্নয়ন কাজ বারবার থমকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে কক্সবাজারের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।

০%
০%
০%
০%