রেলপথ অবরোধের ৫ ঘণ্টা পর নীলফামারীতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং অকার্যকর ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিতে টানা পাঁচ ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা।

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দুই হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইনের ওপর অবস্থান নিলে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে যাওয়া খুলনাগামী ‘রকেট মেইল’ ট্রেনটি চিলাহাটি স্টেশনে এবং অপরদিকে খুলনা থেকে আগত ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ডোমার স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং তীব্র গরমে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনো যাত্রাবিরতি নেই। পাশাপাশি, স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকায় বয়োবৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ট্রেনে ওঠানামা করছেন। বারবার স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো সুফল না পেয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে রাজপথে নামেন।

দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের খবর পেয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসানের নেতৃত্বে রেলওয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এ সময় ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানা পুলিশের একটি চৌকস দলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পরে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা আগামী দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে তাদের অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং আটকে থাকা ট্রেনগুলো স্ব স্ব গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

০%
০%
০%
০%