ভারতের সার্ফিং জগতের দুই উদীয়মান তারকা সুগার শান্তি বানারসে এবং কামালি মূর্তির জন্য ২০২২ সালের কোভালাম ক্লাসিক ছিল এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার শুরু। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে সরাসরি এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন তারা। জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে সার্ফিং ইভেন্টের অভিষেক আসরে অংশ নিতে প্রস্তুত এই দুই নারী সার্ফার।
২০২২ সালে তামিলনাড়ুর কোভালামে আয়োজিত সেই প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে মাত্র ৭ জন নারী অংশ নিয়েছিলেন। তখন ১২ বছর বয়সী কামালি মূর্তির জন্য মূল লক্ষ্য ছিল অভিজ্ঞ সার্ফারদের সাথে পাল্লা দেওয়া। যদিও সেবার তিনি একটি ঢেউও ধরতে পারেননি, তবুও সেই অভিজ্ঞতা তাকে আরও কঠোর পরিশ্রমের অনুপ্রেরণা দেয়। অন্যদিকে, ১৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা সুগার শান্তি বানারসে সার্ফিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বর্তমানে ২০ বছর বয়সী বানারসে এবং ১৬ বছর বয়সী মূর্তির সাথে ভারতের পুরুষ সার্ফিং দলের সদস্য কিশোর কুমার এবং শিবরাজ বাবু এশিয়ান গেমসে সেরা মহাদেশীয় প্রতিভাদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় ভারতের সার্ফিং দল তাদের সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে মুখিয়ে আছে। বানারসের মতে, গত কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর এখন তাদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সময়।
ভারতের সার্ফিং দলের কোচ সামাই রেবুলের হাত ধরে এই অ্যাথলেটরা এগিয়ে চলেছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে যখন ভারতে সার্ফিংয়ের কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না, তখন রেবুল নিজেই প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে এই খেলার সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। আজ সেই চিত্র বদলেছে। গোয়ার মানদ্রেমে সার্ফিং স্কুলের মাধ্যমে বানারসে এবং মামার হাত ধরে মহাবালিপুরামের উপকূলে মূর্তির হাতেখড়ি হয়।
দলের দুই পুরুষ সদস্য কিশোর কুমার এবং শিবরাজ বাবু মৎস্যজীবী পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে তাদের সখ্যতা ছোটবেলা থেকেই। মহাবালিপুরামের একটি স্থানীয় সার্ফিং স্কুলের কাজ করার বিনিময়ে তারা বোর্ড ব্যবহারের সুযোগ পেতেন। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে শুরুতে সার্ফিংয়ের প্রতি তেমন সমর্থন ছিল না, তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তারা আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।