মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের লছনা বাজার এলাকায় সাতগাঁও হাইওয়ে থানার সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস আলম এশিয়ার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি বাসের নিচে চাপা পড়ে সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা যৌথভাবে সিএনজির ভেতর থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাভিদ জানান, রাত সোয়া নয়টার দিকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু ঘটে। নিহতদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এছাড়া তাদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে। রাত দশটা পর্যন্ত কোনো স্বজন হাসপাতালে উপস্থিত হননি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দুর্ঘটনার সময় ওই বাসে থাকা মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন জানান, তারা শিক্ষা সফর শেষে ময়মনসিংহের উদ্দেশে ফিরছিলেন এবং চালককে গাড়ি ধীরে চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ সিএনজিটি সামনে চলে আসায় চালক জোরালো ব্রড করেও সংঘর্ষ এড়াতে পারেননি। এই দুর্ঘটনায় বাসের যাত্রীরা বড় ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত না হলেও আতঙ্কে দুই ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
সাতগাঁও হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।
শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিএনজির তিন যাত্রীই হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে।