রেকর্ড পরিমাণ আয় সত্ত্বেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আর্থিক সংকট যেন কাটছেই না। ক্লাবটির মোট ঋণের পরিমাণ এখনো এক বিলিয়ন পাউন্ডের উপরে। বুধবার প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ক্লাবটির নিট লোকসানের পরিমাণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।
গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে রেড ডেভিলরা ৬৭৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। প্রিমিয়ার লিগে ১৫তম স্থান থেকে ৩য় স্থানে উঠে আসায় সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয় প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না থাকায় ম্যাচ-ডে এবং বাণিজ্যিক আয় প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এই আর্থিক বছরে ক্লাবটিকে বড় ধরনের খরচের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে জানুয়ারি মাসে কোচ রুবেন আমোরিমকে বরখাস্ত করার পর চুক্তি অনুযায়ী ৮ দশমিক ২ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। এছাড়া ওল্ড ট্রাফোর্ডের পাশে নতুন ১০০,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণে ৬৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে ক্লাবটি।
কো-ওনার জিম র্যাটক্লিফ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যয় সংকোচনের কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন, যার অংশ হিসেবে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। যদিও এই প্রক্রিয়াটি বেশ সমালোচিত হয়েছে, তবুও ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর বেরাদা দাবি করেছেন যে, ক্লাব সঠিক পথেই রয়েছে এবং তাদের আর্থিক ভিত্তি মজবুত হচ্ছে।
চলমান ২০২৫-২৬ মৌসুমে মাইকেল ক্যারিক দায়িত্ব নেওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মাঠের পারফরম্যান্সের উন্নতির পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে ক্লাবের আয় ৭৪০ থেকে ৭৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।