সেতু নির্মাণে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ: বাসাইলের প্রকৌশলী স্ট্যান্ড রিলিজ

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের আলোচিত ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বাসাইল উপজেলা থেকে বান্দরবন জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশلیীর কার্যালয়ে বদলি করা হয়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হইতে অবমুক্ত হইয়া তাকে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করিতে বলা হইয়াছে। অন্যথায় ঐ তারিখ অপরাহ্ণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ বলিয়া গণ্য হইবেন।

সেতুটিতে বাঁশ ব্যবহারের এই ঘটনাটি বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়াছে। ঘটনার পর দফায় দফায় তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইয়াছে। পুলিশ মামলা দায়েরের পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেফতার করিয়াছে। এরমধ্যেই অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ফুটপাত স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভাঙিয়া পরীক্ষার পর সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড ব্যবহারের প্রাথমিক সত্যতা মিলিয়াছে বলিয়া জানায় দুদক। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন ও বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হইয়াছে। ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হইয়া ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে আসামি করিয়া মামলা দায়ের করিয়াছেন।

ঘটনা তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এবং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করিতেছেন বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন। এছাড়া সেতুটি পরিদর্শনে আসিয়াছেন এলজিইডির ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।

বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের কাজটি পাইয়াছে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় এবং বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হইয়াছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করিয়া ঢালাই শুরু করিলে স্থানীয়রা বাধা প্রদান করেন এবং মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

এই ন্যক্কারজনক দুর্নীতির ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করিয়াছেন এবং অবিলম্বে এই কাজের সাথে জড়িত সকল দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও দায়িত্বরত অসাধু কর্মকর্তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাইয়াছেন।

০%
০%
০%
০%