পরিবারে পারস্পরিক ভালোবাসাই শান্তি ও সম্প্রীতির মূল ভিত্তি: এটিএম আজহারুল ইসলাম

বউ-শাশুড়ির পারস্পরিক সম্পর্ক মা ও মেয়ের মতো সুদৃঢ় না হলে কোনো পরিবারে শান্তি আসতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি সমাজের প্রচলিত ভুল ধারণার অবসান ঘটিয়ে শাশুড়ি ও পুত্রবধূদের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানিপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়োজিত ব্যতিক্রমী এক ‘বউ-শাশুড়ি মেলা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘বউ-শাশুড়ির অঙ্গীকার, গর্ভকালীন সেবার অধিকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘জননী’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

উপস্থিত শাশুড়ি ও পুত্রবধূদের উদ্দেশে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের সমাজে অনেক সময় শাশুড়িরা ছেলের বউদের আপন করে নিতে চান না, আবার অনেক পুত্রবধূও শাশুড়িকে মায়ের মর্যাদা দিতে কুন্ঠাবোধ করেন। এই মানসিকতা পরিহার করে শাশুড়িরা যেমন পুত্রবধূদের মেয়ের স্নেহে আগলে রাখবেন, তেমনি পুত্রবধূদেরও শাশুড়িকে মায়ের আসনে বসাতে হবে। তবেই একটি পরিবারে প্রকৃত শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও বিরোধী দলের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো সেবার মান আরও বাড়িয়ে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় এবং ১০০ শয্যাবিশিষ্টগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গর্ভবতী মায়েদের সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ইসলাম ধর্মে পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অংশ বলা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কখনো সুস্থ ও সবল থাকা সম্ভব নয়, তাই গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি যত্নশীল হতে হবে।

শিক্ষার বিস্তার ও নারী ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি সুন্দর ও উন্নত জাতি উপহার দেবো’—এই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে সন্তানদের শুধু ভালোবাসা দিলেই চলবে না, তাদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য না করে উভয়কেই সমান সুযোগ দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত মেয়ে যেমন সহজেই নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, তেমনি সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও তারা অসামান্য অবদান রাখার যোগ্যতা অর্জন করে।

লোহানিপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশিকুল আরেফিন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুজ্জামান কবির, নায়েবে আমির শাহ মোহাম্মাদ রুস্তম আলীসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

০%
০%
০%
০%