ইসরায়েলের বিপক্ষে নেশন্স লিগের আসন্ন ম্যাচ দুটি নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে আয়ারল্যান্ড ফুটবল দল। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের উত্তাপ পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে আয়ারল্যান্ড দলের সংবাদ সম্মেলন এবং অনুশীলন সেশন উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে ম্যাচ বয়কটের জোরালো দাবি ওঠায় পুরো দল এখন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা তাদের নির্ধারিত অনুশীলনের সময়ের দুই ঘণ্টা পরও হোটেল থেকে বের হননি বলে জানা গেছে। দলের ভেতরে থাকা গুঞ্জন অনুযায়ী, অনেক খেলোয়াড়ই এই ম্যাচগুলোতে অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দলের ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে যদি একজন খেলোয়াড়ও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে পুরো দলই মাঠ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাচ বয়কটের এই দাবির পেছনে রয়েছে প্রবল জনমত। আয়ারল্যান্ডে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি অত্যন্ত শক্তিশালী, আর সেই প্রেক্ষাপটে ফুটবলারদের ওপর নৈতিক চাপ বাড়ছে। এর আগে কসোভোর বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর আইরিশ মিডফিল্ডার জেসন নাইট প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ম্যাচগুলো মাঠে গড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। দলের কোচ হেইমির হালগ্রিমসন ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ইসরায়েলি ফুটবল ফেডারেশনের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অফ আয়ারল্যান্ড (এফএআই) অবশ্য এখন পর্যন্ত ম্যাচ দুটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অটল রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ম্যাচ বয়কট করলে উয়েফা থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে আয়ারল্যান্ড, যা ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ১৬০ জনেরও বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ এফএআই-কে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন।
ডাবলিনে দলের হোটেলের বাইরেও নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাবেক কোচ ব্রায়ান কার পর্যন্ত এফএআই-এর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। কারের মতে, এফএআই তাদের নিজস্ব নীতি থেকে সরে এসে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা হারিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের বাইরের এই প্রবল চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বল মাঠে গড়ায় কি না, নাকি নৈতিকতার প্রশ্নে ফুটবলাররা শেষ মুহূর্তে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেন।